এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আম'রণ অনশ'নের হুঁশি'য়ারি
স্বচ্ছ নিউজ ডেস্কঃ বেতন-ভাতার বৈ'ষম্য নিরসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দো'লনরত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারকে চূড়ান্ত আল'টিমেটাম দিয়েছেন। তিন দফা দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না হলে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি এবং পরবর্তী ধাপে কঠোরতম কর্মসূচি হিসেবে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর, ২০২৫) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থানরত হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করেন। পুলিশের বাধার মুখে এই পদযাত্রা সচিবালয়ের গেটের কাছাকাছি এসে থেমে যায়। তবে শিক্ষকরা তাদের অবস্থান থেকে নড়তে রাজি হননি।
শিক্ষকদের মূল দাবি:
আন্দো'লনকারী 'এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট'-এর দাবিগুলো হলো:
১. বাড়িভাড়া ভাতা: মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া প্রদান (ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা)।
২. চিকিৎসা ভাতা: শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়ের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা।
৩. উৎসব ভাতা: কর্মচারীদের জন্য উৎসব ভাতা বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা।
শিক্ষক নেতারা অভি'যোগ করেন, সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কেবল মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি বাড়িভাড়া ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শিক্ষকরা তা প্রত্যা'খ্যান করেছেন এবং এটিকে 'তামাশা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, "আমরা দিনের পর দিন বৈষ'ম্যের শিকার হচ্ছি। এই স্বল্প বেতনে পরিবার চালানো অসম্ভব। সরকারের প্রতি আমাদের পরিষ্কার বার্তা— অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করুন। কোনো প্রকার আশ্বাস বা ছলনা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। দাবি মানা না হলে, আজ রাত কাটাবো রাস্তার উপর, কাল থেকে ক্লাসরুম ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে এবং প্রয়োজনে আম'রণ অন'শনে বসব।"
এদিকে, শিক্ষকদের এই লং মার্চ কর্মসূচির কারণে রাজধানীতে উত্তে'জনা বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যা'হত হচ্ছে। শিক্ষক সমাজের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না। এই পরি'স্থিতিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অচ'লাবস্থার সৃষ্টি হওয়ার আশ'ঙ্কা দেখা দিয়েছে।



No comments